অক্ষয় তৃতীয়া কি?

#অক্ষয় তৃতীয়ার কি? _#sri dham kakrajit_#kakrajit_#chaitanya mahaprabhu


জীব হচ্ছে ভগবানের সন্তান । ''অমৃতস্যপুত্ৰ মানবা'' কিন্তু মানুষ কৃষ্ণকে ভুলে ভোগ বাঞ্ছা করার কারণে এই জড়জগতে এসে সংগ্ৰাম করছে ।

''মনষষ্ঠানি ইন্দ্ৰিয়ানী প্ৰকৃতিস্থানী কর্ষতিঃ''- গীতা।

কিন্তু ভগবান করুণাময় হওয়ার কারণে জীবদের বিভিন্ন সুযোগ প্ৰদান করেন , যাতে তারা তার কাছে ফিরে যেতে পারে । যেমন করে কোনো সন্তান বাবার সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলে , বাবা তাকে খুঁজতে বের হন এবং সন্তানকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন , তেমনি ভগবান শ্ৰীকৃষ্ণ অনাদি বহিমুখ জীবকে তার কাছে ফিরিয়ে আনতে মরিয়া । সেজন্য কখনো তিনি জড়জগতে স্বয়ং আসেন আবার তার কোনো নিজজনকে পাঠান , কখনোও বা বিশেষ সুযোগ প্ৰদান করেন।
''অক্ষয় তৃতীয়া'' এমনই একটি সুযোগ । অক্ষয় শব্দটির আক্ষরিক অৰ্থ হচেছ যার কোনো ক্ষয় বা বিকার নেই । এ জগতে সবকিছুই ক্ষয়িষ্ণু । আর এ জগতে মানুষ সাধারণত দুটো কাজই করে - পুণ্য ও পাপ এবং দুটোই ক্ষণস্থায়ী ফলদান করে। ''ক্ষীনে পুণ্যে মৰ্তলোকে বিশন্তি''-গীতা।

তাহলে কোন কাজ অক্ষয় ? অক্ষয় হচেছ অধোক্ষজ ভগবানের প্ৰতি প্রেমময়ী সেবা অৰ্থাৎ ভক্তিযোগ।

 “নেহাভীক্ৰমনাশোহস্তি প্ৰত্যায় ন বিদ্যতে,
  স্বল্পমোপাস্য ধৰ্মস্য ত্ৰায়তে মহতো ভয়াৎ” -গীতা

ভক্তিযোগের সাথে অক্ষয় তৃতীয়ার সম্পৰ্ক কী ? 

মূলত ,'' অক্ষয় তৃতীয়া'' বলতে বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের তৃতীয়া তিথিকে বোঝায় । এ তিথিতে অনুষ্ঠিত শুভ - অশুভ যেকোনো কাৰ্য্যনুষ্ঠানের ফলকে অক্ষয় বলে ধরা হয় ।

অৰ্থাৎ আজকের দিনে,
১) যদি কেউ পুণ্য কৰ্ম করে , তার যেমন ক্ষয় নেই ,
২) তেমনি পাপকর্মের জন্যও তাকে অধিক পরিমাণ দণ্ড ভোগ করতে হয়।

এই অক্ষয়  তৃতীয়া  দিনে পুণ্য কৰ্মফলকে ভক্তিমূলক সেবা হিসেবে ধরা হয় , যদি তা স্বকাম কৰ্মও হয় । সাধারণত ভক্তির ফলকে স্থানান্তর করা যায় না অৰ্থাৎ একজনের ভক্তির ফল অন্য জনকে দেওয়া যায় না । কিন্তু পুণ্যকে স্থানান্তর করা যায় । কিন্তু এ দিনের বিশেষ মহাত্মা হচেছ এই যে , এ দিনে অনুষ্ঠিত পুণ্যকৰ্মকে ভক্তিমূলক সেবা হিসেবে গ্ৰহণ করা হলেও সেই ফলকে অন্যকে দান করা যায় । যা অন্য কোনো সময় সম্ভব নয় । অক্ষয় জিনিস অক্ষয় লোকে থাকে । আর অক্ষয় পরমপুরুষই তা প্ৰদান করতে পারেন । অক্ষয় কৰ্মের ফল অক্ষয় লোকে গিয়ে ভোগ করতে হয় । আর সেই অক্ষয় লোক হচেছ ভগবদ্ধাম , যেখানে গেলে কাউকে আর এ জড়জগতে ফিরে আসতে হয় না ।

সকল তিথি , বার ও পর্বই বৈষ্ণবদের অনুকুলে । কারণ তারা সর্বদাই কৃষ্ণের সেবায় রত — ''তেষাম সতত যুক্তানাং ভজতাম্ প্ৰীতিপূর্বকম''-গীতা।
আবার শিক্ষাষ্টকে বলা হয়েছে -'' কীৰ্তনীয়া সদা হরি''।

সুতরাং সকল তিথিতেই তারা ভগবানের সঙ্গে যুক্ত থাকেন । কিন্তু সাধারণ জীবগণও যাতে ভগবানের ভক্তিতে উন্নতি করতে পারেন , সেজন্য ভগবান এসকল তিথির মাধ্যমে তাদের বিশেষ ছাড় দিচ্ছেন , যাতে তারাও সুদুৰ্লভ ভক্তি অত্যন্ত স্বল্পমূলে ক্ৰয় করতে পারেন । এসমস্ত তিথির মধ্যে অক্ষয় ততীয়া তিথি অত্যন্ত মহিমান্বিত ; কেননা এ তিথিতে এমন সব কাৰ্য বা ঘটনা সংঘটিত হয়েছে যা তাকে অক্ষয় হিসেবে সাৰ্থকতা দান করেছে ।

চলুন, তবে জেনে নেয়া যাক কী হয়েছিল এই অক্ষয় তৃতীয়াতে,

( ১ ) সত্য যুগের সূচনা হয় ।
( ২ ) গঙ্গাদেবীর মর্ত্যলোকে আগমন ।
( ৩ ) পরশুরামের আবিৰ্ভাব ।
( 8 ) মহাভারত রচনা শুরু ।
( ৫ ) যজ্ঞের উপাদানের উৎপত্তি ।
( ৬ ) সীমাচলমে জিয়ুর নৃসিংহদেবের দৰ্শন ।
( ৭ ) দ্ৰৌপদীর অক্ষয় পাত্ৰ লাভ ।
( ৮ ) বদরিকাশ্রমের দরজা খোলে ।
( ৯ ) পাবন চন্দন যাত্রা শুরু ।
( ১০ ) চন্দন যাত্রা শুরু ।
( ১১ ) রামচন্দ্রের রাজ্যাভিষেক ।
( ১২ ) কৃষ্ণ সুদামা মিলন ।
( ১৩ ) কুবের পদ লাভ ।
( ১৪ ) দ্ৰৌপদীর বস্ত্র হরণ ।
( ১৫ ) মা অন্নপূৰ্ণা দেবীর আবিৰ্ভাব ।
( ১৬ ) শংকরাচার্যের কলকাধার নামক বিখ্যাত শ্লোক রচনা ।
( ১৭ ) দ্বাদশ গরুড়দেবের সেবা ।
( ১৮ ) বাঙ্কী বিহারীর চরণ দৰ্শন ।
( ১৯ ) ব্ৰহ্মার পুত্ৰ অক্ষয় কুমারের জন্ম ।
( ২০ ) জগন্নাথদেবের রথের নির্মান কাজ শুরু ।

তাই এই তিথিতে ভাগবত শ্ৰবণ , শ্ৰীনাম সংকীৰ্তন ও জপ, শাস্ত্ৰ অধ্যয়ন, অৰ্চন, বন্দন, , শ্ৰীগুরুর সেবা , সাধুসঙ্গ, বেশি করে মনকে গৌর গোবিন্দর শ্ৰীচরণ সেবায় ব্যস্ত রাখা উচিত ।
''যার থাকবে গৌর প্রেমে রতি , কলি তার করবে না কোনো ক্ষতি ”।

বৈষ্ণবগণ শ্ৰীকৃষ্ণের গুণকীর্তনে রত থেকে জড় কর্মীকে রক্ষা করেন এ ধরণের বিশেষ মহাত্ম্যপূৰ্ণ তিথির মাধ্যমে ।

Post a Comment

0 Comments