অক্ষয় তৃতীয়ায় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর "শ্রীজগন্নাথ" দর্শন।



এক অক্ষয় তৃতীয়া দিবসে পুরী জগন্নাথ মন্দিরে বহু লোকের সমাবেশ হইয়াছে।

"অক্ষয় তৃতীয়া বহুজন সমাবেশে।
স্তম্ভর সমীপে ভীড় ন যায় নিঃশ্বাস।।
জন ঘোষে ইষ্টমুখ দর্শন ন পাই।
উৎকন্ঠিতা দাসী চলে প্রভু পৃষ্ঠে যাই।"

ঐ সময় গরুড় স্তম্ভের নিকটে নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা টুকুও ছিল না। তখন লাবন্য নামে এক দেবদাসী ভীড়ের মধ্যে জগন্নাথ দর্শনে প্রবল আগ্রহ লইয়া জ্ঞান শূন্য হইয়া মহাপ্রভুর স্কন্দে  পা রাখিয়া বিগ্রহ দর্শন করিতে লাগিলেন।

"জন ঘোষে ইষ্ট মূখ দর্শন ন পাই।
উৎকন্ঠিতা দাসী চলে প্রভু পৃষ্ঠে চাই।"

শুধু দর্শনই করিতেছিলেন তাহা নহে, সাথে সাথে শ্রীজয়দেবের গীতগোবিন্দ হইতে একটা গান গাহিতে ছিলেন-

"চন্দন চর্চিত নীল কলেবর পিত বসন বনমালী।
কেলিচরণ মনিকুন্তল শোভিত গন্ডযুগ স্মিতশালী।।"

দেবদাসী লাবন্য এক মনে জগন্নাথের আরতী দর্শন করিতে ছিল। যখন আরতী শেষ হইল। জ্ঞান ফিরিলে তিনি দেখিলেন যে মহা অন্যায় কাজ করিয়া ফেলিয়াছেন, মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গে পা স্পর্শ করিয়া তখন তিনি--

"ত্রান কর ক্ষম দোষ পতিত উদ্ধার।
 অজ্ঞান দাসী অপরাধ ত্রাহি কর।।"

মহাপ্রভু তাহার দৈন্য বিনয় বাক্য শুনিয়া বলিলেন-

"ধন্য কে রমনী বাহ্যজ্ঞান হারা দাসীকূল শিরোমনী।"

সেই দিন হইতে লাবন্য দূর হইতে মহাপ্রভুকে প্রত্যহ দর্শন করিতেন এবং গরুড় স্তম্ভের নিকট হইতে মহাপ্রভু চলিয়া গেলে সেই স্থানের ধূলি মাথায় লইয়া জয় জয় গৌরহরি বলিতেন।

"প্রভুর দরশন স্থল পদ রজ তুলি(তোড়ি)।
শিরে তোলি বোলে জয় জয় গৌরহরি।"

রায় রামানন্দ এই কথা শুনিয়া লাবন্যকে দাসীগনের প্রধানা করিয়া দিলেন।

"রামানন্দ রায় শুনি ইহার চরিত মধুর।
 লাবণ্যে নিয়োগ পতি করিলে সত্বর।"

জয় অক্ষয় তৃতীয়া। জয় চন্দন যাত্রা মহোৎসব কি জয়।

Post a Comment

0 Comments